Home / Uncategorised / উইঘুর মুসলিমদের জন্যে হংকংয়ে বিক্ষোভ, পুলিশের লাঠিপেটা

উইঘুর মুসলিমদের জন্যে হংকংয়ে বিক্ষোভ, পুলিশের লাঠিপেটা

User Rating: Be the first one !

 

চীনের জিনজিয়াংয়ে উইঘুর মুসলিমদের উপর নির্যাতন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে হংকং বিক্ষোভকারীরা। রোববার হংকংয়ের কেন্দ্রে উইঘুরদের সমর্থনে ও চীনের প্রতি নিন্দা জানিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী।আধা স্বায়ত্তশাসিত দুই অঞ্চল উইঘুর ও হংকংয়ের পতাকা ও পোস্টার নিয়ে এদিন মিছিল করেন তারা। গলায় গলা মিলিয়ে স্লোগান দেন, ‘উইঘুর স্বাধীন কর, হংকং স্বাধীন কর।’ ‘ভুয়া স্বায়ত্তশাসনের ফলে উইঘুর গণহত্যা ঘটছে’ স্লোগানও শোনা যায়।

কিন্তু শান্তিপূর্ণ এই বিক্ষোভও ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে দাঙ্গা পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী। বিক্ষোভকারীদের চোখে-মুখে মরিচের গুঁড়া স্ক্রে করে দেয় তারা। তাদেরকে লাঠিপেটাও করে। আটকও করেছে বেশ কয়েকজনকে। খবর রয়টার্সের।

চলতি সপ্তাহে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি দেশটির নীতির সমালোচনা করেন ইংলিশ ফুটবল ক্লাব আর্সেনালের মিডফিল্ডার তুর্কি বংশোদ্ভূত জনপ্রিয় জার্মান ফুটবলার ওজিল। ১৩ ডিসেম্বর মেসুত ওজিল তার ব্যক্তিগত টুইটারে উইঘুরদের বাসস্থানকে মুসলিম উম্মাহর ‘রক্তের মিনার’ বলে আখ্যায়িত করেন।

পশ্চিমা সব গণমাধ্যম যখন উইঘুর মুসলিমদের ওপর চীনের অমানবিক নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরছে, তখনও মুসলিম বিশ্ব নীরবতা পালন করছে। বিষয়টি তাকে অবাক করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ওজিল বলেন, ‘পূর্ব তুর্কিস্তানে পবিত্র কোরআনে আগুন জ্বালানো হচ্ছে, মসজিদে তালা দেয়া হচ্ছে, মাদ্রাসা বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে, একে একে হত্যা করা হচ্ছে ওলামায়ে কেরামকে, যুবকদের বন্দি করে দাসত্বের জীবনের সম্মুখীন করা হচ্ছে।’

এত কিছুর পরও মুসলিম বিশ্বের নীরবতায় আমি অবাক। ওজিলের প্রতিবাদের পরই উইঘুরদের সমর্থনে বিশ্বজুড়ে নতুন করে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ শুরু হয়।

চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় শিনজিয়াং প্রদেশে কমপক্ষে ১০ লাখ উইঘুর বন্দিশিবিরে রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গত বছরের আগস্টে জাতিসংঘ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ১০ লাখ উইঘুরকে চীনের ‘সন্ত্রাসবাদ’ কেন্দ্রগুলোয় আটক রাখা হয়েছে।

২০ লাখ মানুষকে ‘রাজনৈতিক ও রাজনৈতিক পুনর্বিবেচনার শিবিরে’ অবস্থান করতে বাধ্য করা হয়েছে। চীন সরকার বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। কমিটির প্রতিবেদনগুলো প্রত্যাখ্যান করে প্রতিবাদও জানায় প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সরকার।

সম্প্রতি চীনের ফাঁস হয়ে যাওয়া কিছু সরকারি নথিতে ও উঠে এসেছে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে উইঘুর মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের দলিল। শুধু নৃতাত্ত্বিক উইঘুর সম্প্রদায়ের মুসলমানরাই নয়; বরং একই অবস্থা অঞ্চলটির অন্য মুসলিমদেরও। চীনে প্রায় দেড় কোটি উইঘুর মুসলমানের বাস।

জিনজিয়াং প্রদেশের জনসংখ্যার ৪৫ শতাংশই উইঘুর মুসলিম। এই প্রদেশটি তিব্বতের মতো স্বশাসিত একটি অঞ্চল। বিদেশি মিডিয়ার সেখানে প্রবেশের ব্যাপারে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে।


About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *