Home ইসলামিক বিষয়াদি দেখুন বদর প্রান্তর বদর প্রান্তর-পর্ব ২২: (আবু সুফিয়ানের কাফেলা, আরেকটি সতর্কবাণী ),...

বদর প্রান্তর-পর্ব ২২: (আবু সুফিয়ানের কাফেলা, আরেকটি সতর্কবাণী ), ইসলামীক সিরিজ, চলবে…….

আবু সুফিয়ানের কাফেলা

আবু সুফিয়ান যমযমকে প্রেরণ করার পর নিজেও বাণিজ্যিক কাফেলার সাথে খুব দ্রুত রওয়ানা হলাে। তার আশংকা ছিলাে যদি মুসলমানরা তাদের উপর আক্রমণ করে, লুণ্ঠন চালায় তাহলে তার সাথী-সঙ্গীরা মুসলমানদের সাথে কুলিয়ে উঠতে পারবে না। কাফেলা লণ্ঠিত হবে নির্ঘাত। তাই খুব দ্রুত কোন মনযিলের তােয়াক্কা না করে পথ অতিক্রম করছিলাে। এ কারণেই মুসলমানদের হাত থেকে তারা রক্ষা পেয়ে যায়। মুসলমানরা তাদের উপর আক্রমণ করতে পারেনি। 

আবু সুফিয়ান ছিলাে চৌকান্না-বিচক্ষণ। সে আগে-পিছে অনেক গােয়েন্দা পাঠিয়েছে মদীনার দিকে। তাদের নির্দেশ দিয়েছে দুর থেকে মুসলমানদের দেখলেই দৌড়ে এসে আমাদের সংবাদ দিবে। গােটা কাফেলার মধ্যে মুসলমানদের আক্রমণের ভয় ভীতি ছড়িয়ে পড়েছিলাে। তাদের মনে এই ফিকির এতটাই বিস্তার করেছিলাে যে, খাওয়া-দাওয়া, আরাম-বিশ্রাম কিছুতেই তাদের মন বসছিলাে না। চিন্তায় তারা অস্থির হয়ে পড়ছিলাে। আরামের সময়, খাওয়ার সময়, ঘুমানাের সময় যখনই মুসলমানদের কথা মনে আসতাে তখন যেন বুকের উপর কেউ ঘুষি মারতাে। খাওয়া-দাওয়া বিশ্রাম ছেড়ে দিয়ে উঠে যেতাে।

এই অবস্থা শুধু জনসাধারণের মধ্যেই ছিলাে না বরং বড় বড় নেতা এমনকি আবু সুফিয়ানেরও ছিলাে এই অবস্থা। যতই তারা মদীনার নিকটবর্তী হচ্ছিলাে, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ততই তাদের বৃদ্ধি পাচ্ছিলাে। অবশেষে তারা এসে পৌঁছলাে বদরের সন্নিকটে। ওখানে এসে ‘রাওহা নামক স্থানে তারা অবস্থান করলাে। এখানে এসে তাদের পেরেশানী বৃদ্ধি পেলাে বহুগুণে। বিদঘুটে অন্ধকার রাত্র। চতুর্দিকে অন্ধকার ছেয়ে আছে। বার বার আশংকা হচ্ছিলাে না জানি মুসলমানরা নিকটে কোথাও অবস্থান নিয়েছে। আবু সুফিয়ান বিশেষ বিশেষ কয়েকজন লােককে নিজের কাছে ডাকলাে। সে রাত্রে আবু সুফিয়ান মুসলমানদের ভয়ে তাঁবুও স্থাপন করেনি। একটি কার্পেটের উপরে আবু সফিয়ান উপবেশন করে আছে। ৫/৬ ব্যক্তি তার কাছে আসলাে। তন্মধ্যে ছিলাে আমর ইবন আস, মাখরামা ইবন নাওফল। আবু সুফিয়ান বললাে, এ পর্যন্ত তাে ভালােয় ভালােয় সময় অতিক্রান্ত হলাে। বদবখত মুসলমানদের সম্মুখীন হতে হলাে না। কিন্তু এখন আমরা এমন একটি স্থানে এসে পৌঁছেছি। যেখানে মুলকে শামের রাস্তা এবং মদীনার পথ দুটোই মিলিত হয়েছে মক্কার

পথে। আশংকা হচ্ছে কোথাও বদরের কাছে মুসলমানরা ঘাপটি মেরে বসে আছে কিনা। আমরা সেখানে পৌঁছলে অকস্মাৎ হয়তাে তারা হামলা করতে পারে। এছাড়া অন্য কোন পথও নেই যে পথ অবলম্বন করে আমরা মক্কায়। পৌছে যেতে পারবাে। অতএব, আমাদের পরামর্শ দাও, এ মুহূর্তে আমাদের। করণীয় কি ? 

আমর ইবনুল আস ঃ আপনি আজকে বলছেন। আমার কয়েক দিন থেকে। মুসলমানদের পক্ষ থেকে আক্রমণের বিরাট আশংকা হচ্ছিলাে। বদরের এই শস্য-শ্যামল এলাকা আমাদের অতি দ্রুত ছেড়ে যাওয়া উচিত। সম্ভবতঃ। আমরা বদর পেরিয়ে এসেছি। তা সত্ত্বেও বদরের আশপাশের এলাকাও আমাদের অতিক্রম করে যাওয়া উচিত। উচিত হলাে কয়েকজন বিচক্ষণ বীর বাহাদুর বদর পর্যন্ত যেয়ে দেখে আসবে। দুশমনরা কোথাও গুপ্ত ঘাঁটিতে। অবস্থান নিয়েছে কিনা।

মাখরামা ও আমার সিদ্ধান্তও তাই। আমার আশংকা মুসলমানরা বদর, অথবা বদরের নিকটবর্তী কোথাও অবশ্যই অবস্থান করে থাকবে। আমাদের। আগমনের দিন-ক্ষণ, তারা হিসাব করে রাখবে। যদি জানা যায় যে, মুসলমানরা কোথাও নিকটেই অবস্থান করছে, তাহলে ফিরে যেয়ে আমরা তাবুকে’ অবস্থান করবাে। আর তারা যদি নিকটবর্তী না থাকে তাহলে বদরের কাছ দিয়েই আমরা বেরিয়ে যাবাে। 

আবু সুফিয়ান ও আমাদের সাথী-সঙ্গীরা মুসলমানদের ব্যাপারে খুবই ভীত-সন্ত্রস্ত। কাজেই সংবাদ নেয়ার জন্য তাদের কাউকে পাঠানাে নিরাপদ নয়। তাদের উপর ভরসা করা যায় না। হয়তাে ভয় পেয়ে পথিমধ্য হতেই ফিরে এসে এমনিই সংবাদ দিবে এবং আমাদেরকে প্রশান্ত করবে। কিংবা ভয়-ভীতি দেখাবে। অতএব, চলাে, আমি এবং তােমরা দুজন (আমর ইবনুল আস, মাখরামা) উটের উপর আরােহণ করে রাত্রে বদর পর্যন্ত যেয়ে ঘুরে আসবাে। এটাই ভাল মনে হয়।

আমর এবং মাখরামা উভয়েই তৈরী হলাে।। 

আবু সুফিয়ান ও আমতা আমতা করে বললাে, আচ্ছা ঠিক আছে, চলাে। এখন যেয়ে শুয়ে থাকি। সকালের খানিকটা আগে যেয়ে দেখে আসবাে।

দুজন উঠে চলে গেলাে। আবু সুফিয়ান দিক নির্দেশনা দিলাে যে, উটগুলাের মুখ থেকে যেন কোন শব্দ বের না হয়। অন্যথায় শত্রু নিকটবর্তী থাকলে তারা টের পেয়ে যাবে। তারা আক্রমণ করতে পারে। এই দিকনির্দেশনার পর উটগুলােকে নিরব রাখার জন্য বিভিন্ন রকমের কৌশল অবলম্বন করা হলাে। রাত্রের কিছুক্ষণ অতিক্রান্ত হলাে। গােটা কাফেলার সবাই ঘুমিয়ে পড়লাে।

চোখ খুললাে আবু সুফিয়ানের। দেখলাে সকাল হয়ে গেছে। ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে সে ঘুম থেকে উঠলাে। আমর ইবনুল আস, মাখরামাও তখন এসে পৌছলাে। তিনজনই নিজ নিজ সওয়ারীর উপর আরােহন করে রওয়ানা করলাে বদর। অভিমুখে। বদর সেখান থেকে মাত্র কয়েক মাইল দূরে।

সােদনেরই এক ঘটনা। আব সফিয়ান স্বীয় দুই সহযােগীকে নিয়ে বদরের দিকে যাচ্ছিলাে। দিনের কিছু অংশ অতিক্রান্ত হলাে। দুইজন উষ্ট্রারােহী বদরের কুঁয়ার নিকট আসলেন। এরা দুজন ছিলেন অভিজাত আরবদের পােশাক পরিহিত। সেখানে তখন বদর এলাকার একজন সম্মানিত অধিবাসী মাজদী। দাঁড়ানাে ছিলেন। তাঁরা দুজন ছিলেন লাবীস ইবন আমর, আদী ইবন আবির রাগবা। এদের দুজনকে রাসুলল্লাহ (সাঃ) সেনাবাহিনীর আগমনের পর্বেই। শত্রুদের ব্যাপারে গােয়েন্দাগিরির জন্য প্রেরণ করেছিলেন। লাবীস মাজদীকে জিজ্ঞেস করলেন, শাম দেশ থেকে প্রত্যাবর্তনকালে কোন কাফেলা কি এখানে। এসে অবস্থান করেছে?

মাজদীঃ না।

লাবীসঃ কুরাইশের সেনাবাহিনীর অবস্থান সম্পর্কে কিছু জানেন ? | 

মাজদীঃ না। তবে এতটক জানি করাইশের একটি কাফেলা আসন্ন ছিলাে। তবে তারা আসেনি। এই বলে মাজদী চলে গেলেন। লাবীস এবং আদী স্ব স্ব উট বসালেন এবং বড় বড় পানির পাত্রে পানি ভর্তি করলেন। তখন দুটি মেয়ে পরস্পরে কথােপকথন করছিলাে। লাবীস এবং আদী তাদের কথাবার্তা গভীরভাবে শুনছিলেন। একটি মেয়ে বললাে ঃ আরে বােন! তুমি আমার সে পাওনা টাকাটা দিচ্ছাে না কেন? অনেক দিন হলাে তােমার কাছে আমি টাকা পাওনা। তুমি আমার টাকাটা কবে দিবে?

দ্বিতীয় মেয়েটি বললােঃ বারযাহ ! তুমি ভয় পাচ্ছ কেন? তােমার টাকা অতি শীঘ্রই আমি পরিশােধ করবাে। কুরাইশের যে দলটি রাওহা নামক স্থানে অবস্থান করছে, কাল পরশু তারা এখানে এসে পৌঁছবে। তাদের কাছে আমার কিছু দ্রব্যাদি বিক্রি করে তােমার ঋণ পরিশােধ করে দিবাে। 

দুটি মেয়ের একটির নাম ছিলাে বারযাহ। এ দুটো ছােকরি ছিলাে জুহাইনা গােত্রের লােকদের দাসী। লাবীস আদীকে সম্বােধন করে বললেন, বুঝতে পেরেছেন? যে কাফেলার আমরা সন্ধান করছি সে কাফেলাটি রাও হায় অপেক্ষা করছে। তারা আজকালকার মধ্যেই বদরে এসে পৌছবে। তাড়াতাড়ি চলুন। দ্রুত যেয়ে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)কে সংবাদ দিই। ” দুজন উটের উপর আরােহণ করে রওয়ানা হলেন। তাঁদের যেতে না যেতেই আবু  সুফিয়ান,আমর এবং মাখরামা সেখানে যেয়ে পৌঁছলাে। মাজদী

কোথাও থেকে ঘুরে ফিরে পুনরায় সেখানে এসে পৌঁছলেন। তিনি ছিলেন গােত্রপতি। আবু সুফিয়ান তাকে চিনে ফেললাে। 

সে তাকে লক্ষ্য করে বললােঃ মাজদী! তুমি জান, মুসলমানরা কি আশেপাশে কোথাও অবস্থান করছে? |

 মাজদীঃ না। মুসলমানরা আশেপাশে কোথাও অবস্থান করছে বলে আমি। শুনিনি।

আবু সুফিয়ানঃ সত্যি করে বলাে। যদি মিথ্যে বলে থাকো তাহলে তােমার সাথে কুরাইশের শত্রুতা আরম্ভ হবে। এই শত্রুতা তােমাকে ধবংস, করে ছাড়বে।।

মাজদীঃ আমি সত্য করে বলছি। তবে দু’ব্যক্তিকে আমি এই স্থানে কুঁপের কিনারায় দেখেছিলাম। তারা আপনাদের কাফেলা সম্ করছিলাে।

আবু সুফিয়ান তাড়াতাড়ি স্বীয় উট, বসালাে। মাজদী যে স্থানটির প্রতি ইঙ্গিত করেছিলাে সেখানে গেলাে। সেখানে উটের বিষ্টা পড়েছিলাে। সে উটের এই বিষ্টাগুলােকে নাড়াচাড়া দিয়ে পরীক্ষা করলাে এবং বললাে, এগুলাের মধ্যে নিম্ন ধরণের খেজুরের বিচি পাওয়া গেলাে। ইয়াসরিবের উটগুলাের খাদ্য এগুলাে। এটা সুনিশ্চিত যে, এরা দু’জন মুহাম্মাদের গােয়েন্দা। তারা কাফেলা সম্পর্কে সংবাদ দেয়ার জন্য চলে গেছে। আমরা বেঁচে গেছি। চলাে, দ্রুত চলাে।

এই বলে এরা তিনজন উষ্ট্রীর উপরে আরােহণ করে দ্রুত রাওহায় এসে পৌছলাে। এসেই কাফেলাকে প্রস্তুতির নির্দেশ দিলাে। খুব দ্রুত তৈরী হলাে কাফেলা। সেখান থেকে খুব জলদি সমুদ্রের কিনারে কিনারে চলছিলাে। বদরকে বাম দিকে রেখে তারা পথ অতিক্রম করলাে। যেহেতু মুসলমানদের আগমনের আশংকা ছিলাে তাদের মনে, এজন্য পড়ি আর মরি অবস্থায় দ্রুত স্থান ত্যাগ করলাে। অবশেষে বদরের সীমানা তারা ছাড়িয়ে গেলাে। পৌঁছে গেলাে মক্কার রাস্তার সন্নিকটে। সেখানে পৌঁছে জানতে পারলাে, কুরাইশের সেনাবাহিনী, তাদের সাহায্যে এসেছিলাে। তারা চলে গেছে বদরের দিকে।

আবু সুফিয়ান কায়েস নামক এক ব্যক্তিকে সেখানে পাঠালাে। তাকে বলে দিলাে, তুমি আবু জেহেল প্রমুখকে বলবে–বাণিজ্যিক কাফেলা সহি-সালামতে, নিরাপদে মক্কা অঞ্চলে পৌছে গেছে। মুসলমানদের সঙ্গে কোন সংঘর্ষ হয়নি। আপনারা ফিরে চলে আসুন। এতদশ্রবণে কায়েস উটের উপর আরােহণ করে রওয়ানা হলাে।

 আরেকটি সতর্কবাণী 

কুরাইশ বাহিনী বাগাড়ম্বরে খুব জাকজমকে চলছিলাে। তাদের সাথে ছিলাে কিছু হাবশী ক্রীতদাস। তারা সেনাবাহিনীর আগে আগে চলছিলাে নেজা হাতে লম্ফঝম্প করে। যারা আরােহী ছিলাে তারা খুব শানশওকতে দাম্ভিকতার সাথে পথ অতিক্রম করছিলাে। এভাবে পথ চলা রাসূলে আকরাম (সাঃ)এর নিকট ছিলাে অপছন্দনীয়। তাই তিনি মুসলমানদের সতর্ক করে দিলেন। কুরআনে কারীমের নিম্নোক্ত আয়াত শুনালেন ঃ | 

ওয়ালা তাকূনু কাল্লাযীনা খারাজ মিন দিয়ারিহিম বাতারাও ওয়া রিয়াআন্নাস।

অর্থাৎ, তােমরা তাদের ন্যায় হবে না, যারা দম্ভভরে লােক দেখাবার জন্য স্বীয় ঘরবাড়ী হতে বেরিয়েছিলাে। -সুরা আনফাল ঃ ৪৬। 

আবু জেহেল এই বিশাল বাহিনীর দিকে তাকিয়ে খুবই আনন্দিত হলাে। তার দৃঢ় বিশ্বাস ছিলাে, সে মুসলমানদের সমূলে নিপাত করবে। এ কারণেই। সে দম্ভ ও অহংকার সহকারে বললাে যে, মুহাম্মাদ এবং তার সাঙ্গপাঙ্গদের ধারণা, তারা যেভাবে ‘বাতনে নাখলে অবস্থিত কাফেলার উপর আক্রমণ করে মালামাল ছিনতাই করেছে ঠিক অনুরূপ আবু সুফিয়ানের কাফেলার উপরে তারা বিজয় লাভ করবে। লাত ও উযযার শপথ, কক্ষণাে এরূপ হতে পারে না। বস্তুতঃ মুসলমানরা আমাদের হুমকি দিয়ে তাদের মৃত্যু আহবান করেছে। মউত ক্ৰমশঃ তাদের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। হে কুরাইশ! তােমরা শুভ ” সংবাদ গ্রহণ করাে। তােমাদের উপাস্যগুলাের অবমাননা যারা করেছে, তােমরা তাদের সমূলে বিনাশ করে দিবে। তােমাদের দেব-দেবীগণ ক্রোধান্বিত। হয়ে পড়েছেন। তাদের ক্রোধ ও গযব মুসলমানদের উপর নিপতিত হয়েছে। | তারা তােমাদের দয়ার উপরে টিকে আছে। এত বিশাল আকারের জোটবদ্ধ | একটি দল শত্রুর সাথে কখনও মুকাবিলা করেছে বলে কুরাইশ কখনও দেখেনি।

প্রতিটি মনযিলে কোন না কোন নেতা বহু উট জবাই করেছে। খাইয়েছে প্রচুর সংখ্যক লােকদের। এক মনযিলে আবু জাহল দশটি উট জবাই করেছে। গদান কর্তিত পলায়নপর উটটিও তার উটগুলাের অন্তর্ভুক্ত ছিলাে। সেই উটটি | রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের তাঁবুগুলাের পাশ দিয়ে গােটা সেনা ছাউনি এলাকা প্রদক্ষিণ করেছিলাে। দ্বিতীয় মনযিলে সাফওয়ান ইবন উমাইয়া নয়টি উট জবাই করে খাইয়েছিলাে লােকজনকে। তৃতীয় মনযিলে ‘কুদাইদ’ নামক স্থানে

সুহাইল ইবন আমর জবাই করেছিলাে দশটি উট। সে মনযিলে পানির কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। পানির তালাশে তারা বেরিয়েছিলাে। দুর্ভাগ্য তাদের! পথ ভুলে ময়দানের মধ্যেই তারা ঘুরছিলাে। সেখানে শায়বা জবাই করেছিলাে। নয়টি উট এবং লােকদেরকে দাওয়াত করে খাইয়েছিলাে। একেবারে ভােরবেলায়ই এরা আবার পথ চলতে আরম্ভ করলাে। অনেক চেষ্টা প্রচেষ্টার পর তারা আসল পথ খুঁজে পেলাে। কিছুদূর চলেই পৌছলাে জুহফা নামক স্থানে। লােকজন ভয় পেয়ে গেলাে যে, আবার এমন হয়ে পড়ে কিনা যে, ময়দানে আর জঙ্গলে এরূপ বিভ্রান্ত অবস্থায় আমরা ঘুরতে থাকবাে আর। মুসলমানরা আমাদের কাফেলার উপর আক্রমণ করে সফলকাম হয়ে যাবে। কিন্তু যখন রাস্তা পুনরায় পেয়ে গেলাে তখন আর তাদের আনন্দের সীমা রইল না।

 তা সত্ত্বেও কিছুসংখ্যক লােক কু-ধারণার শিকার হয়ে রইলাে। যারা এরূপ কু-ধারণা পােষণকারী ছিলাে, উতবা এবং শায়বা তাদের অন্যতম। এরা দুজন এক পাশে দাঁড়িয়ে কথােপকথন করছিলাে। শায়বা উতবাকে সম্বােধন করে বললাে ঃ উতবা ! আতিকার স্বপ্ন কি তােমার স্মরণ আছে?

উতবাঃ স্মরণ আছে। আমার মনে এখনও ভীতি জাগরুক। আশংকা হচ্ছে প্রকৃত অর্থে আমরা বধ্যভূমির দিকেই তাড়িত হচ্ছি কিনা ? 

এ মুহূর্তে আবু জেহেল তাদের সন্নিকটে এসে পৌছলাে। আবু জেহেলের নিয়ম ছিলাে, সে সর্বদাই সেনাবাহিনীর পিছনে থাকতাে। যাতে কেউ হীনমন্যতায় ভুগে সাহস হারিয়ে পলায়ন করতে না পারে। লােকজনও তার খুব খাতির তােয়াজ করতাে। ভয় পেতাে তাকে। আবু জেহেল উতবা এবং শায়বার কাছে এসে বললাে, তােমরা দুজন কি আলাপচারিতায় লিপ্ত?

উতবাঃ আমরা আতিকার স্বপ্ন সম্পর্কে আলােচনা করছিলাম।

আবু জেহেল তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলাে। সে বললাে, কি তাজ্জব! বনু হাশেম এবং তাদের আওলাদ আবদুল মুত্তালিবের। তারা এতটুকুতেই ক্ষান্ত হয়নি যে, তাদেরই একজন নবুওয়তের দাবী করেছে। আর গােটা কওমকে লিপ্ত করেছে ফিতনায়। কত বড় বিস্ময়ের ব্যাপার, যে সব উপাস্যগুলােকে আমাদের পিতা-প্রপিতারা পূজা করতেন, সেসব উপাস্যগুলাে সম্পর্কে মুহাম্মাদ বলছে, এসব মিথ্যা। তাদের কথায় প্রতীয়মান হয় আমাদের মুরুব্বীরা আহমক ছিলেন। যার ফলে ভ্রান্ত প্রতীমাগুলাের উপাসনা করতেন। আমাদের আত্মমর্যাদাবােধের কি হলাে যে, আমরা এরূপ কথা শুনতেই থাকবাে আর চুপচাপ বসে থাকবাে। যারা এইসব বিভ্রান্তিমূলক কথাবার্তা বলে, আমাদের উচিত তাদের হত্যা করে ফেলা, যে নবুওয়তের দাবী করে তার প্রাণ সংহার করা। মানুষের বিবেক বুদ্ধি কি লােপ পেয়ে গেলাে? যে

খােদাকে কেউ দেখেনি তার অস্তিত্ব আছে কি নাই তাও জানা নেই, তারই। ইবাদত করছে। যে খােদা আমাদের সামনে বিদ্যমান, যেগুলােকে আমরা সবাই দেখছি সেগুলােরই নিন্দাবাদ করা হচ্ছে। ভাইয়েরা আমার! আতিকার স্বপ্ন। শুধু একটি স্বপ্ন মাত্রই। কিংবা এ স্বপ্ন শুধু সেজন্যই তৈরী করা হয়েছে যাতে আমাদের মধ্যে কু-ধারণা এবং হীনমন্যতা, কাপুরুষতা সৃষ্টি হয়। তােমরা সবাই ভালাে করে শুনে নাও, আমরা যখন বিজয়ীর বেশে মক্কায় প্রত্যাবর্তন করবাে তখন আবদুল মুত্তালিবের সন্তানদের সাথে সেই আচরণই করবাে যা। আমরা মনে মনে ভেবেছি।

 শায়বাঃ আবদুল মুত্তালিবের সন্তানদের সাথে আমার অন্য কোন সংশ্রব । নেই। তবে আমাদের সাথে তাদের আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। এজন্য আমরা তাদের প্রতি খেয়াল রাখি। তাদেরকে আমরা সত্যবাদী মনে করি। আমি মুহাম্মাদের বিরুদ্ধে মুকাবিলায় যাওয়াটাকে ভালাে মনে করি না।।

উতবা ঃ আমিও এটাকে সুনজরে দেখছি না। বরং আমার তাে লজ্জা লাগছে। 

শায়বাঃ আমার অবস্থাও অনুরূপ। চলাে আমরা দুজনেই ফিরে চলে যাই। | আবু জেহেল কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থায় তাদের দিকে তাকালাে। বললাে, তােমরা প্রত্যাবর্তনের ইচ্ছে করছাে? আমার কাছে বিষয়টি বিস্ময়কর মনে হচ্ছে। তােমরা কি স্বজাতি এবং নিজেকে অপমান করতে চাইছাে? তােমাদের মাথায় কাপুরুষতার অপবাদ লাগাতে চাইছাে? বীরবাহাদুরদের সাহসকে খাটো করতে চাইছাে? অথচ তােমরা এই অভিযানে এইজন্যই যাচ্ছে যাতে তােমাদের নাম-সুনাম, প্রভাব-প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পায়, আলােকোজ্জ্বল হয়।। নিজের ধর্মের মান উচু রাখার চেষ্টা করাে। আতিকার স্বপ্ন তােমাদেরকে হীনমন্য বানিয়ে ফেলেছে। তােমরা কি মনে করেছে যে, ভুখা-নাঙ্গা, সংখ্যালঘু, দুর্বল মুসলমানরা তােমাদের উপর বিজয় লাভ করবে ? হুবলের শপথ করে আমি বলছি, কস্মিনকালেও এরূপ হবে না। বিজয় আমাদেরই হবে।

শায়বা ঃ বিজয় আমাদের হােক কিংবা মুহাম্মাদের, তবে দ্বন্দ্বটা তাে আমাদের মধ্যে হচ্ছে পরস্পরে। স্বজাতিই তাে পরস্পরে সংঘর্ষের মাধ্যমে ধ্বংস হচ্ছে। আবু জেহেল ! এখনাে সময় আছে। দূরদর্শিতার মাধ্যমে কাজ করুন। জাতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিবেন না। ফিরে চলুন।

আবু জেহেলঃ কি নিরর্থক কথাবার্তা তােমরা বলছাে? শরীরের একটা | অংশ যদি পঁচে গলে নষ্ট হয়ে যায়, সে অংশটুকুকে শরীরের সাথে কেউ

কখনও রেখে দেয় ? না অপারেশন করে ফেলে দেয়? অপারেশন করে না। ফেলার অর্থ হলাে, গােটা শরীরকে নষ্ট করে দেয়া। বুদ্ধিমানের কাজ হলাে, পচা গলা অংশ ফেলে দিয়ে দেহকে রজ্জা করা। সমাজের যারা নিকৃষ্ট এবং মুখরা ঐ সমস্ত লােকদেরকে হত্যা করা খুবই ভালাে এবং পুণ্যের কাজ। তােমরা যদি প্রত্যাবর্তনই করতে চাও তাহলে চলে যাও। এ কথা বলেই আবু জেহেল সামনে অগ্রসর হলাে।

উতবাঃ আবু জেহেল বড়ই অলুক্ষণে। সে নিজেও ডুববে, জাতিকেও ডুবাবে। মুহাম্মাদের সাথে আমাদের সন্তানও আছে। চলাে, আমরা দুজন ফিরে যাই।

শায়বাঃ আমার মনও তাই চায়। কিন্তু যদি ফিরে যাই তাহলে লােকজন আমাদের গালিগালাজ করবে। চলাে, আর কি করবাে। সবার সাথেই থাকতে হবে। এই বলে তারাও কুরাইশ বাহিনীর সাথে রওয়ানা হলাে। জুহফা’ নামক স্থানে অবস্থান করলাে সবাই। উতবা ইবন রবীয়া দশটি উট জবাই করলাে। লােকদের খাওয়ালাে। উল্লেখ্য, যেসব উট জবাই করা হতাে সেগুলাে ছিলাে সওয়ারীর উট ছাড়া স্বতন্ত্র। পরদিন সকালবেলায় জুহাইম ইবন সালত একটি স্বপ্ন দেখলাে। সেই স্বপ্নের ইতিবৃত্ত সে লােকদের শুনালাে। সে বললাে, আমি ছিলাম তন্দ্রাচ্ছন্ন। অশ্ব হাঁকিয়ে এক ব্যক্তি আমার কাছে এসে দাঁড়ালাে। লােকটি চিৎকার করে বলতে লাগলাে, হে কুরাইশ সম্প্রদায় ! রবী আর দুই সন্তান, উতবা এবং শায়বা নিহত হয়েছে। জামআ ইবন আসওয়াদেরও প্রাণসংহার করা হয়েছে। মারা পড়েছে উমাইয়া ইবন খালফ, আবুল বাখতারী, আবুল হাকাম, নাওফল ইবন খুওয়াইলিদ এবং অন্যান্য আরও অনেক সম্মানিত নেতৃবৃন্দ। সুহাইল ইবন আমর গ্রেফতার হয়েছে। হারিস ইবন হিশাম নিজের ভাইকে ছেড়ে পালিয়েছে। তখনই কোন একজন চিৎকার করে বললাে, অশুভ পরিণতির সম্মুখীন হে কুরাইশ জাতি! তােমরা দ্রুত.তােমাদের বধ্যভূমির দিকে যাত্রা করাে। 

এই আরােহী একটি উটের বুকে নেজা মারলাে। বইতে আরম্ভ করলাে রক্তের ফোয়ারা। সেনাবাহিনীর মধ্যে এই উটটি পলায়নপর হলাে। প্রতিটি তাঁবুর পার্শ্ব তার রক্তে রঞ্জিত হলাে। এই স্বপ্ন দেখে আমি ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে। উঠে বসলাম। লােকজন এই স্বপ্ন বৃত্তান্ত শুনে আরও ভীত-সন্ত্রস্ত হলাে। হীনবল হয়ে পড়লাে তারা। যাদের নিহত হবার কথা স্বপ্নে বণিত হলাে, সত্যায়নের জন্য তারা তার কাছে এসে সংবাদ জিজ্ঞেস করলাে। | ফলে, এদিন যাত্রা মূলতবী করা হলাে। লােকজন উদ্বিগ্ন উৎকণ্ঠিত। আবু জেহেল এই সংবাদ শুনে বললাে, এ আবদুল মুত্তালিবের সন্তান! এ দেখি

আরেক নবী হয়েছে। কি মুসীবতের ব্যাপার! এই বংশে যে নবীর ধারা শুরু হয়ে গেছে। আতিকা গায়েব জানার দাবী করেছে। এবার জুহাইমও গায়েবী। জ্ঞানের দাবী করে বসলাে। আসলে এসব কিছুই নয়। এগুলাে কোন স্বপ্নই নয়, গায়েব-টায়েবও নয়। নবী-টবিও কিছু নয়। এর আসল মতলব হলাে, আমরা যেন মুহাম্মাদের বিরুদ্ধে লড়তে না যাই। এরা খুব ভালাে করে জানে, আমাদের এই বিশাল বাহিনী মুহাম্মাদ এবং তার সাথী-সঙ্গীদের প্রাণসংহার করে ছাড়বে। এই জন্য এরা আত্মীয়তার সম্পর্কের টানে আমাদের বারণ করতে নেমেছে। অবলম্বন করেছে বিভিন্ন কৌশল। সবাই কান খুলে শুনে নাও, আমরা ভীত নই, নই পিছু হটবার মত ব্যক্তিত্ব। মুহাম্মাদ এবং তার সাঙ্গপাঙ্গদের মূলােৎপাটনের বাসনা নিয়ে আমরা অভিযাত্রা করেছি। তাদের উৎখাত করে ছাড়বাে। ধুলিস্মাৎ করে ছাড়বাে নতুন ধর্মকে।

উতবা এবং শায়বা এই স্বপ্ন শুনে বললাে ঃ এটা হলাে দ্বিতীয়। সতর্কবাণী। তারা আরও বললাে যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর রসূল। আমরা কেন তার বিরুদ্ধে লড়তে যাবাে। যদি সে সত্য নবী হয়ে থাকে তাহলে বিজয়ী হবে। অবশ্যই। আমরা তার বিরুদ্ধে লড়াই করতে যেয়ে কেন মারা পড়বাে। আর যদি সে সত্য, নবী নাই হয়ে থাকে তাহলেও তাে সে আমাদের আত্মীয়-আপনজন। তার বিরুদ্ধে কেন আমরা যুদ্ধ করতে যাবাে। | এরা দুজন ফিরে চলে আসার জন্য প্রস্তুত হলাে। ইতােমধ্যে এলাে আবু জেহেল। সে বললাে ঃ তােমরা দুজন কি শলাপরামর্শ করছাে?

উতবা, শায়বা ঃ আমরা ফিরে চলে যাবার জন্য মনস্থ করেছি।।

আবু জেহেলঃ আমি মনে করি, এটা কোন স্বপ্নই নয় বরং আমাদেরকে প্রত্যাবর্তন করানাের একটি ষড়যন্ত্র। ফিরে যেয়ে স্বজাতিকে অপমান করাে।

তােমরা যদি ফিরে যাও তাহলে সবাই তােমাদের কাপুরুষ বলবে। বদনাম হবে তােমাদের। লােকজন তােমাদেরকে এবং তােমাদের বংশের লােকদেরকে ঘৃণার দৃষ্টিতে, হেয় নজরে দেখবে। তােমরা কি তা বরদাশত করতে পারবে? এটুকু বলার জন্যই আমি তােমাদের কাছে এসেছি। | শায়বা ঃ হে ইবন হানযালিয়া (আবু জেহেল) ! আমাদেরকে বারবার সতর্ক করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে সংঘটিতব্য বিষয়াবলী সম্পর্কে অবহিত করা হচ্ছে আমাদেরকে। জ্ঞানের কাজ হবে আমাদের সতর্ক হওয়া, বধ্যভূমির দিকে না যাওয়া বরং ফিরে চলে যাওয়া। | আবু জেহেল ও এটা হবে মারাত্মক আহম্মকি। মুসলমানরা মনে করবে আমরা তাদের ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে ফিরে চলে গেছি। তারা তখন সিংহে পরিণত হবে। ধৃষ্টতা তাদের বেড়ে যাবে। আমাদের কাফেলার উপর হামলা

করে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য খতম করে দিবে। গােটা জাতি কপ হত-দরিদ্র হয়ে পড়বে। আমি কিভাবে বুঝাবাে যে, মুসলমানদের পড করা উচিত এবং এ বিষয়টি কত জরুরী। বিভিন্ন প্রকার সংশয়-সনে জল্পনা-কল্পনায় মাথা ঘামাবে না। বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত। এত বাহিনী থাকা সত্ত্বেও আমরা পরাস্ত হবাে বলে বিশ্বাস করাে?

 শায়বা ও আমরা তাে শুধু একটি কথাই বুঝি, তুমি নিজেও ধ্বংস আর আমাদেরও হালাক করবে। চলাে, আমরা তােমার সাথেই আছি। জেহেল খুশিতে আটখানা। উতবা এবং শায়বার জন্য সেদিনই আব জেতে শরাবের একটি বড় পাত্র ভর্তি করে পাঠিয়ে দিলাে।

চলবে..

ইসলামিক সিরিজ….

ভাল লাগলে নিচের কমেন্ট বক্সে মতামত জানাবেন





LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

বিদেশ গামী ব্যক্তিদের করোনা টেস্ট করার_নিয়মাবলীঃ

বহুদিন পর আন্তর্জাতিক বিমান খুলে দেয়ার পর অনেকেই দেশের বাহিরে যাওয়ার কথা ভাবছেন। কিন্তু সে ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট...

পবিত্র জুমা আদায়ের মধ্য দিয়ে মসজিদের মহান গৌরব ফিরে পেল আয়া সোফিয়া

ইতিহাসের স্বাক্ষী হতে আয়া সোফিয়ায় নামাজে উপস্থিত ছিলেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোয়ান। নামাজের আগে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে কুরআন...

নবীজির চার কন্যাঃ

মহানবী (সাঃ) ছিলেন কন্যা অন্তপ্রাণ পিতা। তিনি তাঁর কন্যাদের অত্যন্ত ভালোবাসতেন। মহান আল্লাহও পবিত্র কুরআনে তাঁর কন্যাদের...

জাপান গার্ডেন সিটিতে কুরবানির পশু না ঢুকানোর সিদ্ধান্ত চরম ধৃষ্টতা : হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী এবং হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব বিশিষ্ট হাদীস বিশারদ কায়েদে...

Recent Comments

John Doe on TieLabs White T-shirt