Home ইসলামিক বিষয়াদি দেখুন বদর প্রান্তর বদর প্রান্তর-পর্ব ২৪: (ভয়-ভীতি, সর্বশেষ প্রচেষ্টা ), ইসলামীক সিরিজ, চলবে…….

বদর প্রান্তর-পর্ব ২৪: (ভয়-ভীতি, সর্বশেষ প্রচেষ্টা ), ইসলামীক সিরিজ, চলবে…….

ভয়-ভীতি

কুরাইশের সাকীরা সত্য কথাই বলেছিলাে। মক্কার কাফিররা বদরে এসে বালর টিলার পিছনে একটি সুপ্রশস্ত ময়দানে অবতরণ করলাে। তারা সাকীদেরকে যরীব পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত কালীব নামক কুয়া থেকে পানি নেয়ার জন্য পাঠিয়েছিলাে। পানি নেয়ার জন্য যখন এসেছিলাে তখন ছিলাে অন্ধকার। এর অল্পকিছুক্ষণ পরেই চন্দ্র উদিত হলাে। চাঁদের আলাে ছড়িয়ে পড়লাে। কুরাইশ সেদিন দশটি উট জবাই করেছিলাে এবং সেগুলাের গােশত ভুনা করছিলাে। বিভিন্ন স্থানে অগ্নি প্রজ্জ্বলিত ছিলাে গােশত রান্না এবং ভুনা করা উপলক্ষ্যে। হঠাৎ আওয়াজ এলাে, “হে কুরাইশ সম্প্রদায় ! হুঁশিয়ার, সাবধান, মুসলমান এসে গেছে!

এই আওয়াজ গােটা সেনাবাহিনীতে গুঞ্জরিত হলাে। যারাই এই আওয়াজ শুনেছে তাদের প্রতিটি ব্যক্তিই ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে থরথর করে কাঁপতে লাগলাে। যারা খানা তৈরী করে খাবার ইচ্ছে করছিলাে তাদের হাত থেকে খানা পড়ে গেলাে। যারা গােশত ভুনা করছিলাে তাদের হাত থেকে মাংসের টুকরা পড়ে গেলাে আগুনের উপর। মােটকথা, কেউ খানা খেতে পারলাে না। | হাকীম ইবন হিযাম বলেন, আমরা আমাদের তাঁবুতে মাংস ভুনা করছিলাম। আকস্মিক আওয়াজ এলাে, “হে কুরাইশ সম্প্রদায় ! হুশিয়ার, মুসলমান এসে গেছে।” আমার হাত থেকে গােশতের টুকরা পড়ে গেলাে। ভয়ে সারা দেহ কাঁপতে লাগলাে। বিশেষতঃ আমার অবস্থা এমন হলাে, যেন পায়ের ভিতর থেকে মগজ শুকিয়ে গেছে। দাঁড়াতে চাইলাম পারলাম না।

আমি বললাম, লাত, উযযা অনিষ্ট সাধন করুন। এটা হলাে ইবন হানজালিয়ার (আবু জেহেলের) কুফা। আবু জেহেল আমাদের সবাইকে। জোরপূর্বক বধ্যভূমির দিকে নিয়ে এসেছে। এতে বুঝা যায়, কেউ এসে আগেই মুসলমানদের খবর পৌঁছে দিয়েছে। গােটা বাহিনীতে ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপক আকারে। কওমের সম্মানিত এবং বাহিনীর অধিনায়কগণ একজন। অপরজনের তাঁবুর দিকে ছুটাছুটি করতে লাগলাে। উতবা ইবন রবীআ হাকীম। ইবন হিযামের কাছে দৌড়ে এসে বললাে, হাকীম! হুবলের শপথ! আমি। এখানে এসে মারাত্মক উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় সময় কাটাচ্ছি। আমি জানি না, তােমার কি অবস্থা। 

হাকীমঃ আমার অবস্থা আপনার চেয়েও খারাপ। ভয় ও উদ্বেগ এতটাই। প্রভাব বিস্তার করেছে যার ফলে আমার হাত থেকে খানা পড়ে গেছে। পায়ের শক্তি উধাও হয়ে গেছে। দাঁড়াতেও পারছি না।

উতবাঃ এই কুফা ইবন হানযালিয়ার আনুগত্যের। আমরা মারাত্মক বােকামী করেছি। যে কাফেলার সাহায্যে আমরা এসেছিলাম তারা তাে বেঁচে গেছে। কিন্তু আমাদের মউত আমাদেরকে আমাদের বধ্যভূমির দিকে টেনে। এনেছে। তােমার আশংকা হচ্ছে না যে, মুহাম্মাদের বাহিনী আমাদের উপর। নৈশ আক্রমণ করবে ? 

হাকীমঃ শুধু আশংকাই নয়, বরং আমার দৃঢ় বিশ্বাস। দেখুন, আকাশে ঘনঘটা ছেয়ে আছে। অন্ধকার বিদঘুটে আকার ধারণ করছে। আমাদের উচিত লােকদের এরূপ পরামর্শ দেয়া যাতে উট এবং ঘােড়াগুলাে কোন প্রকার আওয়াজ করতে না পারে। অন্যথায় মুসলমানরা আমাদের উপস্থিতি সম্পর্কে টের পেয়ে যাবে। গােটা রাত জাগরণ করে সবাই পাহারাদারী করবে। | 

উতবাঃ তুমি সুপরামর্শ দিয়েছে। এই বলে উতবা চলে গেলাে এবং ঘােষণা করলাে, উট এবং ঘােড়াগুলাের মুখ বেঁধে রেখাে। যাতে এগুলাে। আওয়াজ না করতে পারে। সারারাত সবাই জাগ্রত থেকে পাহারাদারী করবে?

আকাশে তখন মেঘের ঘনঘটা। মেঘখণ্ড আকাশের। করছে। সারাদিন ধরে প্রচণ্ড গরম ছিলাে.। এখন পরিবেশ মােটামুটি ঠাণ্ডা। সমিষ্ট হাওয়া বয়ে চলেছে। কুরাইশ বাহিনী মুসলমানদের ভয়ে অগ্নিগুলাে। নিভিয়ে দিয়েছিলাে। গােটা ক্যাম্প অন্ধকারে ছেয়ে আছে। পিনপতন নিরবতা বিরাজ করছে। এক ভুতুড়ে পরিবেশ। মনে হচ্ছে যেন এখানে কোন সেনাবাহিনীই অবস্থান করছে না। মক্কার কুরাইশরা উট এবং অশ্বগুলাের মুখে লাঠি দিয়ে পিটাচ্ছে যাতে একটুও আওয়াজ না হয়।

আম্মার, এবং মাসউদ কঠোর নিরবতা অবলম্বন করে এখানে আসলেন।

সেনাবাহিনীর সন্নিকটে দাঁড়িয়ে কাফিরদের আচার-আচরণ পর্যবেক্ষণ করছেন। কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে সেখান থেকে ফিরে চলে গেলেন। কুরাইশ রাতভর ভয়ে। জাগ্রত থাকলাে। খাওয়া-দাওয়া পর্যন্ত করতে পারলাে না। ক্ষুধার্ত পিপাসার্ত। অবস্থায় বসে বসে কাল কাটালাে।

গত রাত আবু জেহেল উতবার কাছে এসেছিলাে। উতবা এবং হাকীম। তখন একই স্থানে বসেছিলাে। আবু জেহেল উতবাকে সম্বােধন করে বললাে, কে বলে তুমি অধিনায়কের যােগ্য ? তুমি লােকদেরকে রাত্রি জাগরণ এবং হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। এটা করে লােকজনের মনে ভীতির সঞ্চার করেছে। গােটা বাহিনী অস্থির। তােমার কি দৃঢ় বিশ্বাস ! মুহাম্মাদ এবং তার সাঙ্গপাঙ্গরা আমাদের সেনাবাহিনীর উপর নৈশ আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়বে? অথচ আমাদের বাহিনী এত বিশাল যে, পাহাড় উল্টে দিতে পারে। লাত ও উযযার শপথ, এটা কক্ষণাে হতে পারে না। মুসলমানরা তাে ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত। এই বিশাল বাহিনী মক্কা থেকে বেরিয়েছে বলে করাইশ কখনাে দেখেছে? তােমরা দেখবে আমাদের এই বাহিনী মুসলমানদের পিষে সমূলে নিপাত করবে। আমি কোনরূপ দ্বিধা-সংশয় ছাড়াই বলছি। তােমরা কাপুরুষ এবং লােকদেরকে তােমরাই হীনবল করছাে। আমি আমার দল নিয়ে আলাদা অবস্থান করবাে। সবাইকে তাগিদ দিয়ে বলছি, আমাদের হেফাজত কারুর করতে হবে না। আমি দেখবাে, মুসলমানরা আমাদের উপর কিভাবে নৈশ আক্রমণ করে। 

কতক্ষণ বকাঝকা করে আবু জেহেল এখান থেকে প্রস্থান করলাে। উতবা বললাে, এ লােকটি একেবারে অকর্মন্য, আস্ত একটি কুফা আর বেআক্কেল। মুহাম্মাদের শিষ্যরা আমাদের সাকীগুলােকে পর্যন্ত গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে। অথচ এই খবীস লােকটার এখনও চোখ খােলেনি। আমরা তাে তখনই তাকে নির্ভীক, বীরবাহাদুর মনে করতে পারি, যখন সে আমাদের সাকীদের তাদের কাছ থেকে ছাড়িয়ে আনতে পারবে।

হাকীমঃ ওর কথা বলাে না। এ এক পাড় মাতাল, দাম্ভিক, অহংকারী। আজকে আমার অভিজ্ঞতা হলাে, বিবেক বুদ্ধি বলতে ওর কিছু নেই। এই বদবখত, আত্মমর্যাদাবােধ উসকে দিয়ে আমাদের এখানে হাজির করেছে। আমি দেখছি, আমাদের মাথার উপর মৃত্যু চক্কর দিচ্ছে। এই কুফা আমাদের সবার প্রাণসংহার করে ছাড়বে। এ সময় সামান্য বৃষ্টি আরম্ভ হলাে। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি পড়ছে আকাশ থেকে।

হাকীম বললােঃ দীর্ঘসময় পর খুব সুন্দর একটি পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। আকাশের বৃষ্টির ঘনঘটা ছেয়ে আছে। হালকা বৃষ্টি আরম্ভ হয়েছে। এটি ছিলাে

আনন্দের সময়। কিন্তু হলে কি হবে, চিন্তা আর উদ্বেগে আমরা জব্দ হয়ে। গেছি। নৈশ আক্রমণের ভয়ে সমস্ত আনন্দ একদম উবে গেছে। এ সময় চলতাে। শরাবের পালা। সুন্দরী যুবতী, মায়াবিনী, ষােড়শীদের নাচগানের আসর। লােকজন উপভােগ করতাে। এই কুফা ইবন হানযালিয়া এখনও যদি সম্মত হয়ে মুসলমানদের সাথে সন্ধি করে ফেলতাে! ‘ 

হাকীমঃ তুমি আমার মনের কথাটা ব্যক্ত করেছে। কিন্তু এই বদবখত কি এই কথা মানবে? 

বৃষ্টি কিছুটা জোরেশােরে আরম্ভ হলাে। বারিবর্ষণের রিমঝিম আওয়াজ আসছে। লােকজন তাঁবুর ভিতরে। যারা ভিতরে তারা তাে নিরাপদ। কিন্তু যারা তাঁবুর বাইরে ওরা তাে ভিজছে। বৃষ্টি ক্রমশঃ বেড়েই চললাে। এবার শুরু হলাে মুষলধারে বৃষ্টি। মনে হলাে যেন আকাশের জানালাগুলাে সব খুলে দেয়া হয়েছে। ফেরেশতারা নিজ হাতে পানি ঢালছে।

বাতাস প্রচণ্ড আকার ধারণ করলাে। কাফিরদের তাঁবুগুলাে উড়িয়ে নিয়ে। যেতে লাগলাে। তাঁবুগুলাে ধড়াশ ধড়াশ করে পড়ছিলাে। তাঁবুর নিচে পড়ছে। লােকজন। অনেক কষ্টে তাঁবুর নিচ থেকে ওরা বেরুচ্ছে।

উপর থেকে বৃষ্টি পড়ছে আর নিচে জমেছে পানি। লােকজন ভিজে জড়সড়। এদিকে আবার মুসলমানদের নৈশ আক্রমণের ভয়। কারণ, জোর বৃষ্টির কারণে কোন আওয়াজও শােনা যাচ্ছিলাে না। তাদের আশংকা হচ্ছিলাে, মুসলমানরা হঠাৎ এসে আক্রমণ করে বসে কিনা। সবাই চৌকান্না। তাঁবুগুলাে পড়ার বিকট আওয়াজ যখন হচ্ছিলাে, লােকজন হঠাৎ হঠাৎ লাফিয়ে উঠছিলাে। তারা মনে করছিলাে এই বুঝি মুসলমান এসে গেলাে আর মারধর শুরু হয়ে গেলাে।

অবশেষে সকালবেলা বৃষ্টি বন্ধ হলাে। কয়েকটি তাঁবু তখন দাঁড়িয়ে আছে। অবশিষ্ট সবগুলাে পড়ে গেছে। সকালের রশ্মি যখন উজালা হয়ে ছড়িয়ে। পড়লাে, তখন আকাশের ঘনঘটা দূরীভূত হলাে, আসমানে বিক্ষিপ্ত আবরের টুকরাগুলাে ছুটোছুটি করছিলাে তখন কাফিরদের দেহে কিছুটা প্রাণের সঞ্চার হলাে। কাপড়-চোপড় নিংড়িয়ে উঠে চলাফিরা করতে লাগলাে। রাতভর দানাপানি তাদের উদরে ঢুকেনি। রাত্রি জাগরণ করে বৃষ্টির পানিতে ভিজছিলাে। তাদের অবস্থা ছিলাে সকরুণ। হঠাৎ আওয়াজ এলাে ‘আল্লাহু আকবার। সবাই ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে দেখতে লাগলাে সিংহের ন্যায়। মুসলমানরা এগিয়ে আসছে। ভেসে আসছে তাদের পক্ষ থেকে নারায়ে তকবীরের মুহুর্মুহু ধ্বনি।

সর্বশেষ প্রচেষ্টা 

রাত্রে সাহাবায়ে কেরাম কূপের নিকট একটি বড় হাউজ তৈরী করেছিলেন। শুকনাে ঘাসের একটি চালা বা ঝুপড়িও তৈরী করেছিলেন। ঐ ঝুপড়ির কাঠ ছিলাে খেজুরের। আল্লাহ রাব্বল আলামীন রাত্রে এমন বৃষ্টি দিলেন যারফলে হাউজ পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে গেলাে। প্রিয়নবী (সাঃ) ঝুপড়ির ভিতর বৃষ্টিতে নিরাপদ রইলেন। সাহাবায়ে কেরামের কিছু কিছু আসবাবপত্র রেখেছিলেন ঝুপড়ির ভিতর। সেগুলাে নিরাপদ থাকলাে। মুসলমানরা রাত্রে (হালকা বৃষ্টিতে ভিজলেন। ফজরের নামায পড়ার সাথে সাথেই তারা হাউজের কিনারের দিকে চললেন। এই হাউজের পাড়েই সারিবদ্ধ হলেন তাঁরা। রাত্রে বৃষ্টি হয়েছিলাে রাসূলে আকরাম (সাঃ)এর দু’আর বদৌলতে।

কুরাইশরা দেখলাে মুসলমানদের সংখ্যা খুবই নগন্য। ফলে তাদের মধ্যে। অহংবােধ সৃষ্টি হলাে। আবু জেহেল ছিলাে বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। সেও তার , বাহিনীকে সারিবদ্ধভাবে সুবিন্যস্ত করলাে। এদিকে রাসূলে আকরাম (সাঃ) মুসলমানদের সারি ও সুবিন্যস্ত করলেন। বাহিনী বিন্যাসের পর হযরত রাসূলে আকরাম (সাঃ) ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)কে নির্দেশ দিলেন কুরাইশের কাছে যেয়ে ঈমানের দাওয়াত দিয়ে প্রমাণ সম্পূর্ণ করাে। ওমর ফারুক (রাঃ) চললেন। কুরাইশের কাতারের সন্নিকটে যেয়ে বুলন্দ আওয়াজে বললেন ঃ | 

“হে কুরাইশ সম্প্রদায়! আমরা এ ব্যাপারে কোন অভিযােগ করছি না যে, তােমরা আমাদের কষ্ট-তকলীফ দিয়েছে, আমাদের উপর জুলুম-নির্যাতন করেছাে, করেছাে আমাদের দেশান্তর। অবশেষে মদীনায় এসে আক্রমণ করেছে। আমাদের চারণভূমিতে। আমরা জিজ্ঞেস করছি, তােমরা আমাদের উপর কেন আক্রমণ করতে এসেছে। আমরা এ পর্যন্ত তােমাদের উপর হামলা করিনি। তােমরা আমাদের আপনজন। আমরা তােমাদের আত্মীয়-স্বজন। পরস্পরে যুদ্ধ-বিগ্রহ করা অনুচিত। আমরা আর তােমরা যেন একই বৃক্ষের বিভিন্ন শাখা। পরস্পরে আমরা যুদ্ধ করলে আমরাই তাে দুর্বল হবাে। আমরা যদি তােমাদের উপর চড়াও হতাম আর তােমরা যদি আমাদেরকে ফিরে যেতে বলতে তাহলে আমরা ফিরে যেতাম। তােমরা আমাদের উপর আক্রমণ করতে

টীকা-১, ঐতিহাসিক গ্রন্থাবলীতে পাওয়া যায় যে, সে বৃষ্টি কাফিরদের দিকে হয়েছিলাে মুষলধারে আর মুসলমানদের দিকে হালকা। এটা ছিলাে খােদায়ী মদদের

এসেছাে, আমরা তােমাদের বলছি ফিরে যাও। বস্তুতঃ আমরা তােমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা ভালাে মনে করি না। তােমরাও লড়াইকে সুনজরে দেখবে না।  নিজেদের আত্মীয়তার কথা স্মরণ করাে। 

হাকীম ইবন হিযামঃ ওমর ইবনুল খাত্তাব ইনসাফের কথা বলেছে। তার উক্তি খুবই যুক্তিসংগত। তার এই কথা মেনে নেয়া উচিত। এবার যদি ভুল। করাে তাহলে তােমাদের এরজন্য লজ্জিত হতে হবে। 

আবু জেহেল চিৎকার করে বলে উঠলাে ঃ তােমরা কি ধরনের কথা বলছাে? এখনও বুঝতে পারছাে না তােমরা, মুহাম্মাদ এবং তার সাঙ্গপাঙ্গদের উপর আমাদের প্রভাব বিস্তার করেছে। আমাদের সুবিশাল বাহিনী দেখে প্রভাবিত হয়েছে তারা। তারা এখন আমাদের আওতার ভিতরে এসে গেছে। আমরা ইচ্ছে করলেই তাদের পদদলিত করে—পিষে দিতে পারি। চিরদিনের জন্য ঝগড়া চুকিয়ে দিতে পারি। এ মুহূর্তে আমরা প্রত্যাবর্তন করে আমাদের ললাটে বদনামীর দাগ লাগাবাে? এই রকম আত্মমর্যাদাবােধহীন কর্মের চেয়ে আমাদের মরে যাওয়াই শ্রেয়। হে উমর ! আমরা ফিরে যাওয়ার মতাে ব্যক্তিত্ব নই। আমরা লড়বাে এবং তােমাদের প্রাণসংহার করবাে।

ওমর ইবনুল খাত্তাব ঃ ইবন হানজালিয়া! সেই পবিত্র সত্তার কসম ! যার কুদরতি হাতে আমার প্রাণ, আমি কক্ষণাে তােমার কাছে আসতাম না, কারণ, আমি খুব ভালাে করেই জানি, তুমি উচ্ছংখল এক বাচাল। কিন্তু আমাকে বাধ্য করেছেন সে রাসূলে খােদা (সাঃ), যিনি সারা বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ পৃথিবীতে আগমন করেছেন। আমরা আমাদের পক্ষ হতে প্রমাণ। সম্পূর্ণ করেছি। এবার আল্লাহর গযব তাদের উপর পতিত হবে যারা সত্যের প্রতি স্বীকৃতি দেয় না। তােমরা চিন্তা করে নাও। মাত্র চার ঘন্টা তােমাদের সুযােগ দেওয়া হলাে।

এই বলে হযরত ওমর (রাঃ) ফিরে চলে আসলেন। প্রিয়নবী (সাঃ) তখন। তাশরীফ রাখছিলেন স্বীয় ঝুপড়িতে। তিনি তন্দ্রাচ্ছন্ন। হযরত আবু বকর, সিদ্দীক (রাঃ) তাঁর সান্নিধ্যে বসা। হঠাৎ নবী করীম (সাঃ) চোখ খুললেন। মুচকি হেসে বললেন, মুবারক সংবাদ। বিজয়। হযরত আবু বকর সিদ্দীক। (রাঃ) আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার মাতাপিতা আপনার প্রতি উৎসর্গ হােক। আল্লাহ তাআলা আপনাকে সর্বদাই মুচকি হাসিতে রাখুন। এ সময় কি কোন অহী নাযিল হয়েছে ? রাসূলুল্লাহ (সাঃ) উঠে বসে গেলেন। বললেন, হাঁ। নবী করীম (সাঃ) তখনই বাইরে বেরিয়ে এলেন। আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) এলেন তাঁর পিছু পিছু। প্রিয়নবী (সাঃ) বললেন ৪ মুবারক সংবাদ ! আল্লাহ তা’আলা এই যুদ্ধের ফয়সালা দিয়েছেন—বিজয়। এই মাত্র

অহী অবতীর্ণ হলাে। এর অর্থ হলাে, শত্রু বাহিনী পরাস্ত হবে। ওরা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে পালাবে। এই শুভ সংবাদ শুনে সাহাবায়ে কেরাম যারপরনাই। আনন্দিত হলেন। লক্ষণীয় বিষয় হলাে, এই ভবিষ্যদ্বাণী তিনি তখন। করছিলেন যখন হক ও বাতিল পরস্পরে রণক্ষেত্রে অবতীর্ণ। বাতিল বিরাট শান-শওকত ও আঁকজমকে বীরবিক্রমে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে এসেছে। তাদের। বিপরীতে মুসলমানদের তেমন কিছুই ছিলাে না। মুসলমানরা ছিলেন। সংখ্যালঘু। অস্ত্র ও জনবল সবদিক দিয়েই তারা দুর্বল। উল্লেখযােগ্য কোন অস্ত্রশস্ত্রই তাদের ছিলাে না। সংখ্যায় তারা কাফিরদের এক-তৃতীয়াংশ। এমত অবস্থায় বিজয়ের শুভ সংবাদ সত্যিই মহাবিস্ময়ের ব্যাপার!

ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) সামনে অগ্রসর হয়ে আরয করলেন ঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা প্রমাণ সম্পূর্ণ করেছি। কাফিররা কল্লা কাটানাের জন্যে এবং যুদ্ধ করার জন্যে, আমাদের প্রাণসংহারের জন্যে প্রস্তুত।

প্রিয়নবী (সাঃ) ও আল্লাহ তাআলা তাদের ঘাড় মটকে দিবেন। রাসূলে আকরাম (সাঃ) হাতে একটি তীর নিয়ে সাহাবায়ে কেরামের সারিগুলাে। সােজা করছিলেন। মাঝখানে দাঁড়িয়ে তিনি ইরশাদ করলেন ।

হে আমার সাহাবী সম্প্রদায়! সর্বপ্রথম আমি প্রশংসা করছি সে মহান রাব্বল আলামীনের যিনি এক, লা-শরীক, যার মুঠোয় আমাদের এবং তােমাদের সবার প্রাণ। তিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন, তিনিই আমাদের মৃত্যু দিবেন। অতঃপর …..। আল্লাহু রাব্বল আলামীন আমাদেরকে জিহাদের নির্দেশ দিয়েছেন। জিহাদ সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত। জিহাদকারী জান্নাতের যােগ্য। যদি সে শহীদ হয়, কোন প্রকার হিসাব নিকাশ ব্যতিরেকেই সে যাবে জান্নাতে। বেঁচে থাকলে সে গাজী হিসাবে আখ্যায়িত হবে। পরকালে পাবে জান্নাত।

টীকা-১. জিহাদকালে সারিবদ্ধ করার সময়কার এক বিস্ময়কর ঘটনা। সাওয়াদ ইবন গাযিয়্যা (রাঃ) কাতার থেকে বেরিয়ে আছেন। প্রিয়নবী (সাঃ) হাতের তীর দ্বারা আস্তে করে তার পেটে আঘাত করে বললেন, সােজা হয়ে দাঁড়াও। তিনি উহ করে। চিৎকার করে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি কষ্ট পেয়েছি। আপনি সত্য ও ইনসাফ নিয়ে আগমন করেছেন। আমাকে এর প্রতিশােধ নেবার সুযােগ দিন। রাসূলে করীম (সাঃ) তৎক্ষণাৎ জামা উপর দিকে তুলে পেট মুবারক খুলে দিলেন। সাওয়াদ। অগ্রসর হয়ে অত্যন্ত উৎসাহ-আগ্রহের সাথে নবীজীর (সাঃ) দেহে চুম্বন করে আর করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি কি প্রতিশােধ নেবাে? মৃত্যু সামনে দণ্ডায়মান। বিদায়কাল সন্নিকটে। মনের আকাংখা ছিলাে জীবনের এ অন্তিম মুহূর্তে আপনার দেহ মুবারকে চুম্বন করবাে। তাই এ কৌশল অবলম্বন করলাম। এতদশ্রবণে নবীজী মুচকি হেসে তার জন্য দুআ করলেন।—তারীখে ইসলাম ও ১৬৩।—অনুবাদক।

হে মুজাহিদগণ! আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করাে। আল্লাহর গযবকে ভয় করাে। যারা জিহাদ থেকে পলায়ন করবে তাদের প্রতি আল্লাহর গযব নাযিল হয়। মুসীবতের পর শান্তি, কষ্টের পর আরাম, অবমাননার পর ইযযত লাভ হয়। তলােয়ারের ছায়ায় জান্নাত। পরীক্ষার সময় এসে গেছে। এই পরীক্ষায় তােমরা সাফল্য অর্জন করাে। আল্লাহ তাআলা তােমাদের পৃষ্ঠপােষক থাকবেন, দিবেন নাজ ও নিয়ামত। সত্য ও মিথ্যার এই প্রথম রণক্ষেত্র। তাগুতি শক্তিগুলাে হককে চিরতরে মিটিয়ে দিতে চায় কিন্তু আল্লাহ তাআলা সত্যকে বুলন্দ করবেন। আল্লাহ রাব্দুল আলামীনের সাহায্যের উপর ভরসা। করাে। অবশ্যই তিনি তােমাদের সাহায্য করবেন। সফলতা অবশ্যই তােমাদের পদচুম্বন করবে ইনশাআল্লাহ। প্রিয়নবী (সাঃ)এর জ্বালাময়ী ভাষণ শুনে। সাহাবায়ে কেরামের অন্তর আলােকোজ্জ্বল হচ্ছিলাে। তাদের দৃষ্টির সামনে যেন। জান্নাতের ছবি চিত্রিত হচ্ছিলাে। তারা কাফিরদের প্রাণসংহার ও নিজেদের জান উৎসর্গ করার জন্য পরিপূর্ণ প্রস্তুত হলেন। 

রাসূলে আকরাম (সাঃ) যখন ভাষণ দিচ্ছিলেন তখন কুরাইশ বাহিনীতে বিভিন্ন প্রকার চেঁচামেচি হচ্ছিলাে। লােকজন লড়াই অপেক্ষা সন্ধিকে ভালাে। মনে করতে লাগলাে। কুরাইশের কয়েকজন সম্মানিত ব্যক্তি উমাইর ইবন ওয়াহাবকে মুসলিম বাহিনীর সংবাদ নেয়ার জন্যে পাঠিয়েছিলাে। সে ফেরত চলে গিয়েছিলাে। সেখানে যেয়ে সে বললাে, আমি মুসলমানদের সংবাদ নিয়ে এসেছি। তিনশ’র বেশী হবে না ওরা। বাহ্যতঃ মনে হলাে তারা যেন ব্যাঘ্র ও। সিংহ। তাদের চেহারায় মাহাত্ম, আবেগ-স্পৃহা ও বীরত্ব প্রকাশমান। তারা। মৃত্যুকে পরােয়া করে না। লাত ও উযযার শপথ, তাদের মধ্যে অস্থিরতা অথবা ভয় ভীতির নামগন্ধও নেই। তারা যুদ্ধের ভীষণ প্রত্যাশী। মৃত্যু তাদের সামনে। তারা যদিও আমাদের নাগালে কিন্তু তাদের সাথে যুদ্ধ মৃত্যুকে আহবান করার নামান্তর।

হাকীম ইবন হিযাম উতবা ইবন ওয়ালীদকে সম্বােধন করে বললােঃ উমায়েরের কথাগুলাে শুনলে ? | 

উতবাঃ শুনেছি। প্রথমেই আমি এ সব কথা বলেছিলাম। মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ মানে মউতের সাথে লড়াই করা। | 

হাকীমঃ তাহলে একটি কাজ করাে, যাতে তােমারও সুখ্যাতি হয় এবং পরবর্তীতে তুমি কুরাইশের স্বীকৃত নেতাও হয়ে যাও। কেউ কেউ জেদ ধরে বসে আছে যে, মুসলমানরা ‘বাতনে নাখল’ নামক স্থানে আমাদের লােকজনের

টকিা-১. কোন কোন গ্রন্থে এ স্থানটির নাম ‘বাতনে নাখ লা’ উল্লেখ করা হয়েছে।–অনুবাদক।


উপর আক্রমণ করেছে। হত্যা করেছে আমর ইবন আবদুল্লাহ হারামীকে। তােমরা সে কাফেলার মালের বিনিময় ও নিহত ব্যক্তির খুনের রক্তপণ দিয়ে। দাও এবং লােকদেরকে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে ফেরত নিয়ে চলাে।।

উতবাঃ আমি তা মঞ্জুর করলাম। এ ব্যাপারে আমি চেষ্টা করবাে। এই বলে উতবা সেনাবাহিনীর সামনে যেয়ে উচ্চকণ্ঠে বললাে, হে কুরাইশ সম্প্রদায়! তােমরা উমর ইবনুল খাত্তাবের বক্তব্য শুনেছাে। শুনেছাে উমায়ের ইবন ওয়াহাবের মন্তব্য। আমি প্রথম থেকে বলে আসছিলাম আবারও বলছি, মুহাম্মাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা উচিত হবে না। তবে এর কারণ এটা নয় যে, আমি মুহাম্মাদকে রাসূল স্বীকার করি। যদি তাই হতাে, তাহলে তাে আমাদের। আর তাদের সাথে কোন বিবাদই থাকতাে না। বরং আমি এজন্যই বলছি যে, তারা তােমাদের নিকটাত্মীয়। যারা তার অনুসারী তারা তােমাদেরই ভাই-বন্ধু। তারা মারা গেলে তাদেরই ভাই-বেরাদরদের দুঃখ হবে। তারাও যখন তােমাদের ঘাতক মনে করবে তখন তাদের চোখে পানির স্থলে রক্ত আসবে। সম্ভাবনা আছে তারা কোন সময় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে ভাইয়ের ঘাতককে হত্যা করবে। এভাবে কওমের মধ্যে রক্তারক্তির এক ধারাবাহিকতার সূচনা হবে। আমার কথা শুনাে। তােমরা ফেরত চলে এসাে। এতেই রয়েছে জাতির কল্যাণ। মুসলমানরা তােমাদের যে কাফেলার উপর ‘বাতনে নাখলে’ আক্রমণ করেছিলাে, ছিনতাই করেছিলাে মালামাল, তার বিনিময় তােমরা আমার কাছ থেকে নেবে। যারা সেখানে নিহত হয়েছে, তাদের রক্তপণ আদায় করবে আমার নিকট থেকে। ব্যর্থতা এবং কাপুরুষতার – অভিযােগও আমার মাথায় অর্পণ করবে। এখানে থেকে ফিরে চলাে।

অনেকেই বললাে, উতবা যুক্তিপূর্ণ কথা বলেছে। নাজানি এই যুদ্ধ কত অসংখ্য যুদ্ধের সূচনা হয়ে দাঁড়ায়। লড়াই করা আমাদের উচিত হবে না। 

এতদশ্রবণে আবু জেহেল জটিলতার শিকার হলাে। সে বুঝতে পারলাে এ মুহূর্তে যদি উতবা কুরাইশকে ফেরত নিয়ে যায় তাহলে জাতীয় স্বীকৃত নেতা হবে সেই। এবং আবু জেহেলের প্রভাব-প্রতিপত্তি ধুলায় লুণ্ঠিত হবে। তাই সে চিৎকার করে বলে উঠলাে, ও তােমরা উতবার প্রতারণায় পড়বে না। তার ছেলে আছে মুহাম্মাদের আওতায়। মুহাম্মাদ তার চাচাতাে ভাই। সে কোনক্রমেই চায় না, তার সন্তান এবং ভাতিজা মারা পড়ুক। ও কাপুরুষ। উভয় দলের লােকজন যুদ্ধের জন্য তৈরী করার পর ফিরে চলে যাওয়ার কোন প্রশ্নই আসে না।

উতবা অত্যন্ত ক্রোধান্বিত হয়ে বললাে ঃ ও ছেড়া তেনা অসভ্য! তুই | আমার উপর কাপুরুষতার অভিযােগ এনেছিস। অতি শীঘ্রই জানতে পারবি

কাপুরুষ কে। এই বলে উতবা ক্রুদ্ধ হয়ে আবু জেহেলের ঘােড়ার পায়ের রগগুলাে কেটে ফেললাে। বললাে, যা এবার পায়ে হেঁটে যুদ্ধ কর।

আবু জেহেল লজ্জিত হলাে এবং আমর ইবন হারামীর ভাই আমের ইবন আবদুল্লাহ হারামীর কাছে গেলাে। তাকে বললাে, উতবা লােকদেরকে বিভ্রান্ত করে ফেরত নিয়ে যেতে চাইছে। জাতির সামনে যেয়ে তুমি ফরিয়াদ করাে। এতদশ্রবণে আমের সেনাবাহিনীর সামনে যেয়ে চিৎকার করে বললো। হায় আমর! হায় আমর!! আমি আমার ভাইয়ের রক্তের বিনিময় রক্ত দ্বারা নিতে চাই। তার রক্ত বিক্রি করবাে না। এই খুনের প্রতিশােধ নেয়া গােটা। জাতির জন্য আবশ্যক। তার বক্তব্য শুনে গােটা বাহিনীতে চরম উত্তেজনার। সৃষ্টি হলাে। সবাই প্রস্তুত হলাে মরা ও মারার জন্য।

চলবে..

ইসলামিক সিরিজ….

ভাল লাগলে নিচের কমেন্ট বক্সে মতামত জানাবেন






LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

হারিয়ে যাওয়া তথ্য ফিরে পান সহবে ।। Card Recovery Software 100% Working

ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন যে ভাবে সেটাপ দিবেন

ইসলামের দৃষ্টিতে জন্ম নিয়ন্ত্রণের বিধান (BIRTH CONTROLLING)

প্রশ্নঃ শরীয়তের দৃষ্টিতে জন্ম নিয়ন্ত্রণের বিধান কী ?উত্তরঃ বর্তমানে জন্ম নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন পদ্ধতি চালু আছে। কিছু স্থায়ী পদ্ধতি। কিছু অস্থায়ী পদ্ধতি।–স্থায়ী পদ্ধতি বলতে বুঝায়,...

এবার আর্ন্ত জাতিক পর্যায়ে পবিত্র হজ সীমিত করার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের শেষ সিদ্ধান্ত

বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের ভয়াবহ সংক্রমণ পরিস্থিতিতে সৌদি আরব সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, সৌদি আরবের বাহির থেকে কোন দেশের হজযাত্রী এ বছরের হজ...

অবাক হবেন! আপনার করোনা হবেই না হয়তো।

নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত না হওয়া অনেকের শরীরে এমন ‘টি-সেল’ রয়েছে, যেটি এই ভাইরাসকে প্রতিহত করতে সক্ষম। কারণ...

Recent Comments

John Doe on TieLabs White T-shirt